এসইও
Trending

এসইও (SEO) কি? এসইও নিয়ে যত কথা! [A to Z]

এসইও সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

আসসালামু আলাইকুম সবাইকে! আশা করি সবাই ভালো আছেন! আজকে আমরা এসইও সম্পর্কে যাবতীয় সকল সচারাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নগুলোর উত্তর জানবো! তাই আজকেই এই আর্টিকেলটি অনেক আকর্ষণীয় হতে চলেছে। চলুন তাহলে প্রথম থেকেই শুরু করি –

Table of Contents

এসইও কি? (What is SEO)

এসইও হলো সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন (Search Engine Optimization) এর শর্টফর্ম যার অর্থ হলো সহজ কথায় সার্চ ইঞ্জিনে কোনো ওয়েবসাইটকে র‍্যাংক করানোর জন্য যা করা হয় তাকেই এসইও বা সার্চ ইঞ্জিন অপ্টিমাইজেশন বলে।

এসইও কেন করবো? (Why do we SEO)

আপনার যদি একটা ওয়েবসাইট থাকে তাহলে আপনি নিশ্চয়ই চাইবেন যে আপনার ওয়েবসাইটে মানুষ ভিজিট করুন, গুগল বা বিভিন্ন সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করে আপনার ওয়েবসাইট খুজে পাক। এর জন্য আপনাকে এসইও করতে হবে। আপনার ওয়েবসাইটটিকে সার্চ ইঞ্জিনে র‍্যাংক করে সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিজিটর আনার জন্য এসইও করা প্রয়োজন।

এসইও কিভাবে করে? (How to do SEO?)

আসুন তাহলে ধাপে ধাপে জেনে নিই কিভাবে করবো এসইওঃ

নিশ সিলেকশন (Niche Selection)

সর্বপ্রথম আপনাকে যে কাজটি করতে হবে সেটি হলো আপনি ঠিক কোন বিষয়টি নিয়ে আপনার ওয়েবসাইটে কাজ করবেন সেটি সিলেক্ট করা। যেমনঃ মোবাইল ফোন রিভিউ, হেলথ, এসইও, টেকনোলজি, এডুকেশন ইত্যাদি। এগুলো হলো প্রাইমারি ফোকাস কিওয়ার্ড অর্থাৎ নিশ কিওয়ার্ড। নিশ কিওয়ার্ড গুলোর মধ্যে আবার অনেক সাব কিওয়ার্ড আছে যেটাকে আপনি মাইক্রো নিশ বলতে পারেন।
ব্যাপার টা আরেকটু সহজ করে বলতে গেলে, ধরুন আপনি এসইও নিয়ে একটি ব্লগ খুলতে চান। তাহলে এসইও হলো আপনার প্রাইমারি ফোকাস কিওয়ার্ড বা প্রাইমারি নিশ কিওয়ার্ড। কিন্তু এসইও এর মধ্যেও আবার অনেক ভাগ আছে যেমনঃ কিওয়ার্ড রিসার্চ, অনপেজ এসইও, অফ-পেজ এসইও, ব্যাকলিংক ইত্যাদি ইত্যাদি। এখন যদি এসইও এর ক্যাটেগরি গুলোর মধ্যে শুধুই একটা ক্যাটেগরি নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে সেটি হবে আপনার মাইক্রো নিশ কিওয়ার্ড। এটাকে মেইন কিওয়ার্ডও বলে। অর্থাৎ আপনি যদি এসইও এর কিওয়ার্ড রিসার্চ এর উপর লেখা-লেখি করেন বা করতে চান তাহলে এসইও হলো আপনার ফোকাস কিওয়ার্ড আর কিওয়ার্ড রিসার্চ হলো আপনার মেইন কিওয়ার্ড মাইক্রো নিশ কিওয়ার্ড।

কিওয়ার্ড রিসার্চ (Keyword Research)

আমার মতে এসইও এর মেরুদণ্ড যদি কিছু হয় তাহলে সেটা হলো কিওয়ার্ড রিসার্চ। এসইও করার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং অপরিহার্য বিষয় হলো কিওয়ার্ড রিসার্চ। যার কিওয়ার্ড রিসার্চ যত ভালো হবে তার এসইও তত বেশি শক্তিশালী হবে এবং সেই ওয়েবসাইট তত তারাতারি র‍্যাংক হয়ে যাবে। তাই কিওয়ার্ড রিসার্চ ইজ দ্যা রুট অফ এসইও।
কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্য বর্তমানে অনেক ফ্রি এবং পেইড টুল পাবেন। পেইডটুল গুলো অনেক ব্যয়-বহুল তাই সাধারণ মানুষের পক্ষে এসব টুল কিনে সার্ভিস নেওয়া অনেক কষ্টসাধ্য। তাই আপনাকে ফ্রি টুলগুলো দিয়ে আপনি মুটামুটি মাপের কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারবেন। আর আপনি যদি একটি একটু টেকনিক খাটিয়ে কাজ করেন তাহলে আপনি ফ্রী টুল দিয়েও খুব ভালোভাবে কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে পারবেন।
বর্তমানে যেসব ফ্রী টুল পাবেন কিওয়ার্ড রিসার্চ করার জন্যঃ

এসইও অডিট (SEO Audit)

আপনার ওয়েবসাইটের এসইও এর কি কি দুর্বলতা আছে, কি করলে ভালো করা যাবে এসব বিষয় নিয়ে একটা রিপোর্ট তৈরি করাকে এসইও অডিট বলে সহজ কথায়। এটা খুবই প্রয়োজনীয় একটা বিষয়! কারণ আপনি যদি কোনো কাজ করার আগে সেই কাজ সম্পর্কে আগে থেকেই জেনে নেন তাহলে কাজ করতে সব থেকে বেশি সুবিধা পাবেন। এটাও সেরকমই। আগে বের করেন কি কি সমস্যা আছে আপনার সাইটের তারপর লেগে পড়েন কিভাবে সেটা সলভ করা যায়।
বর্তমানে অনেক টুলস আছে যেগুলোর মাধ্যমে ফ্রিতেই আপনার সাইটের এসইও অডিট করতে পারবেন। যেমনঃ

অনপেজ অপ্টিমাইজেশন (On Page Optimization)

অপপেজ অপ্টিমাইজেশন হলো এসইও প্রাণ। অনপেজ ছাড়া ওয়েবসাইট র‍্যাংক প্রায় অসম্ভব। যদি র‍্যাংক হয়েও যায় সেটা কোনো না কোনো সময় গুগলের চোখে পড়বেই। তখন আর নিস্তার নাই।
অনপেজ অপটিমাইজেশন বলতে বুঝায়, আপনার ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরীণ এসইও। যেমনঃ ওয়েবসাইটের টাইটেল, মেটা ডেসক্রিপশন সহ সকল মেটা ট্যাগ, স্কিমা মার্ক-আপ, লোডিং স্পিড, হেডিং ইত্যাদি ইত্যাদি। এসব বিষয়গুলো ভালো ভাবে অপটিমাইজড করাই অন-পেজ এসইও বা অন-পেজ অপটিমাইজেশন এর কাজ।
এখন কথা হলো কিভাবে অন-পেজ অপ্টিমাইজেশন করবেন?
অনপেজ অপটিমাইজেশন করার আগে আপনাকে অবশ্যই আপনার ওয়েবসাইটের এসইও অডিট এবং আপনার নিশ কিওয়ার্ড অনুযায়ী কিওয়ার্ড রিসার্চ করতে হবে। নাহলে আপনি অন-পেজ অপ্টিমাইজেশন করতেই পারবেন না। করলেও ফলাফল তেমন পাবেন না।
আপনার মেইন কিওয়ার্ড আপনার ওয়েবসাইটের টাইটেলডেসক্রিপশনে বসান। আপনার সকল কিওয়ার্ড দিয়ে সুন্দর একটি মেটা ডেসক্রিপশন বানান। প্রাইমারি অবস্থায় এটাই অনেক কাজে দিবে।
কিভাবে অন-পেজ অপটিমাইজেশন করবেন এটা নিয়ে আমাদের পরে বিস্তারিত পোস্ট আসবে। চিন্তার কোনো কারণ নাই ইনশাআল্লাহ।
অনপেজ অপটিমাইজেশন করার জন্য আমাদের এসইও বঙ্গতে অনেক টুল রয়েছে আপনি সেগুলো ইউজ করতে পারেন! যেমনঃ

  •  মেটা ট্যাগ জেনারেটর
  •  Robots.txt জেনারেটর
  • XML সাইটম্যাপ জেনারেটর
  • htaccess রিডাইরেক্ট জেনারেটর

এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল লেখা (SEO Friendly Article)

কথায় আছে, কন্টেন্ট ইজ কিং। কন্টেন্ট আসলেই কিং। কন্টেন্ট এসইও ফ্রেন্ডলি না হলে আপনি র‍্যাংকে যেতে পারবেন না। তাই আপনাকে এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল না লিখে কোনো উপায় নেই। আপনি হাজার হাজার ওয়ার্ডের আর্টিকেল লিখে ওয়েবসাইটে পোস্ট করলেন কিন্তু আর্টিকেলটি এসইও ফ্রেন্ডলি হলো না। তাহলে কোনো লাভ নাই ভাই। লাভ হবেই বা কিভাবে? এসইও ফ্রেন্ডলি করার উদ্দেশ্যই হলো আপনার আর্টিকেলের ভিতরে কি কি আছে সেটা যাতে গুগল বুঝতে পারে। গুগল তো আর আমাদের মতো মানুষ না যে পড়ে পড়ে দেখবে সব কিছু। গুগলে হেডিং গুলোকে বেশি প্রায়োরিটি দেয়। আপনার হেডিং দেখেই গুগল বুঝে নিবে, আপনি আপনার আর্টিকেলে কি কি সম্পর্কে লিখেছেন।
তাই এসইও ফ্রেন্ডলি কন্টেন্টের জন্য হেডিং, টাইটেল, প্যারাগ্রাফ ইত্যাদি ভালোভাবে সাজানোর দিকে বিশেষভাবে টাইম দেওয়া উচিত। ১ দিনে ৭ টা পোস্ট করার থেকে ৭ দিনে ১ টা মানসম্মত পোস্ট করা অনেক অনেক ভালো!

অন্যান্য (Others)

এসইও করার আরোও অনেক ধাপ রয়েছে যেমনঃ অফ-পেজ এসইও, লোকাল এসইও, ব্যাকলিংক ইত্যাদি। কিন্তু যেগুলো নিয়ে আলোচনা করছি উপরে সেগুলোই এসইও এর মেজর ফ্যাক্ট। বাকিগুলোও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তবে উপরের আলোচনা করা বিষয় গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা পরবর্তীতে এসব প্রত্যেকটি ধাপ নিয়ে আলাদা আলাদা ভাবে বিস্তারিত পোস্ট করবো ইনশাআল্লাহ।

এসইও কত প্রকার ও কি কি? (Types of SEO)

ধরণ অনুযায়ী এসইও সাধারণত ৩ প্রকার!

  • White Hat SEO
  • Black Hat SEO
  • Gray Hat SEO

হোয়াইট হ্যাট এসইও কি? (What is White Hat SEO)

হোয়াইট হ্যাট এসইও বলতে বুঝায় একদম গুগলের নিয়ম মেনে কোনো এসইও কর। গুগলের অ্যালগরিদম বুঝে, গুগল যেসব নির্দেশনা দেয় এসইও করার সেসব মেনে এসইও করাই হলো White Hat SEO. এই টাইপের এসইওতে গুগলের কোনো নিয়মনীতি না ভঙ্গ করে একদম লিগ্যাল ওয়েতে এসইও করাকে বুঝায়।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কি? (What is Black Hat SEO)

সহজ কথায় গুগলকে বোকা বানিয়ে গুগলে ওয়েবসাইট র‍্যাংক করার এসইও পদ্ধতিই হলো ব্ল্যাক হ্যাট এসইও। এটা সম্পূর্ণ একটি ইলিগ্যাল একটি পদ্ধতি। গুগল যদি কখনো বুঝতে পারে যে আপনি ব্ল্যাক হ্যাট এসইও করেছেন তাহলে আপনি গুগল থেকে পেনাল্টি তো খাবেনই তার সাথে আপনার সাইটটি গুগল ব্ল্যাকলিস্টেট করে দিতে পারে। আর ব্ল্যাকলিস্টেড করলে আপনার ওয়েবসাইট গুগল থেকে ধীরে ধীরে সকল র‍্যাংক হারিয়ে ফেলবে। শত চেষ্টা করেও আর র‍্যাংক করাতে পারবেন না।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও গুগল এখন খুব সহজেই বুঝতে পারে। তাই গুগলকে আর ধোকা দেওয়া আগের মতো সহজ কাজ নয়। তাই এই ব্ল্যাক হ্যাট এসইও থেকে বিরত থাকার পরামর্শ সকলের। লিগ্যাল পদ্ধতি অবলম্বন করুন সেফ থাকুন।

গ্রে হ্যাট এসইও কি? (What is Gray Hat SEO)

গ্রে হ্যাট এসইও বলতে বুঝায় White Hat SEO এবং Black Hat SEO এর সংমিশ্রণ। অর্থাৎ আপনি যদি একই সাথে হোয়াইট হ্যাট এসইও করেন এবং পাশাপাশি ব্ল্যাক হ্যাট এসইও-ও করেন তাহলে আপনার এসইও গ্রে হ্যাট এসইও এর মধ্যে পড়বে। এখানেও যেহেতু ইলিগ্যাল পদ্ধতি আছে তাই গ্রে হ্যাট এসইও-ও আপনার ওয়েবসাইটের জন্য খুব বিপদজনক। এটা করে আপনি বেশিদিন গুগলে র‍্যাংকে থাকতে পারবেন না। কোনো না কোনোভাবে আপনি গুগলের চোখে ধরা পড়বেনই। তখন পেনাল্টি খাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

আবার সাধারণভাবে এসইও ৩ প্রকার! এটাকে আপনি হোয়াইট হ্যাট এসইও এর প্রকারভেদও বলতে পারেন।

  •  অন-পেজ এসইও
  • অফ-পেজ এসইও
  • টেকনিক্যাল এসইও

অন-পেজ এসইও কি? (What is On Page SEO)

আপনার ওয়েবসাইটের ভিতরে এসইও সংক্রান্ত সকল কাজই হলো অন-পেজ এসইও এর মধ্যে পড়ে। অর্থাৎ টাইটেল, মেটা টাইটেল, মেটা ডেসক্রিপশন, এসইও ফ্রেন্ডলি আর্টিকেল পাব্লিশ করা সবই অন-পেজ এসইও। এসইও এর মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো অন-পেজ এসইও করা। আপনার অন-পেজ এসইও র‍্যাংকিং এর ক্ষেত্রে ৬০-৭০% কাজে দিবে। তাই অন-পেজ এসইও ভালো ভাবে না করলে আপনি কখনো আপনার সঠিক টার্গেটে যেতে পারবেন না।

অনপেজ এসইও এর বিষয় সমূহঃ (Topics of On Page SEO)

  • Meta Title
  • Meta Description
  • Heading
  • SEO Friendly Article

অফ-পেজ এসইও কি? (What is Off Page SEO)

আপনার ওয়েবসাইটের বাহিরে এসইও সংক্রান্ত কাজকে অফ-পেজ এসইও বলা যায়। যেমনঃ কিওয়ার্ড রিসার্চ, ব্যাকলিংক ইত্যাদি।
আরও ভালোভাবে বুঝায় জন্য বলা যেতে পারে, আপনার ওয়েবসাইটের অন-পেজ এসইওকে আরোও ইফেক্টিভ করতে আপনার ওয়েবসাইটকে কেন্দ্র করে ওয়েবসাইটের বাহিরে যেসব কাজ করা হয় সেগুলোকে অফ-পেজ এসইও বলা যায়।

সেজন্য বলাই যাই অফপেজ এসইও হলো অন-পেজ এসইও এর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস। বিশেষ করে কিওয়ার্ড রিসার্চ। আপনার কিওয়ার্ড রিসার্চ যত ভালো হবে আপনি তত ভালো অন-পেজ এসইও করতে পারবেন।

অফ-পেজ এসইও এর বিষয়সমূহঃ (Topics of Off Page SEO)

  • Keyword Research
  • Backlink
  • Directory Submission
  • Guest Posting
  • Domain and Page Authority

টেকনিক্যাল এসইও কি? (What is Technical SEO)

আপনার ওয়েবসাইট তখনই র‍্যাংক করবে যখন সার্চ ইঞ্জিন আপনার ওয়েবসাইটকে ইন্ডেক্স করতে পারবে এবং ওয়েবসাইটের সকল স্ট্রাকচার ধরতে পারবে। তাই সার্চ ইঞ্জিন যাতে সহজেই আপনার ওয়েবসাইটক্র ক্রল করতে পারে, সার্চ ইঞ্জিনের সকল নির্দেশনা মেনে ওয়েবসাইটের অভ্যন্তরে বিশেষ বিশেষ কাজ করাকে টেকনিক্যাল এসইও বলে। এটা এক প্রকার সার্ভার সাইড কাজও বলা যায়। সার্চ ইঞ্জিনের যাতে আপনার ওয়েবসাইটের ক্রলিং করাতে কোনো সমস্যা না হয় সেই জন্য টেকনিক্যাল এসইও করা হয়।

টেকনিক্যাল এসইও এর বিষয়সমূহঃ (Topics of Technical SEO)

  • Website structure & Design
  • Page Loading speed
  • Mobile Usability
  • Sitemap & Robots.txt file upload
  • SSL certificate
  • Structured data
  • Crawler error fixing
  • URL structure
  • Canonical tags
  • 404-page error fixing
  • 301 redirects

ওয়েবসাইট এসইও কি? (What is website seo)

এতক্ষণ যে এসইও নিয়ে কথা বললাম সেসবই ওয়েবসাইট এসইও। অর্থাৎ একটি ওয়েবসাইটে যে এসইও করা হয় তাকে ওয়েবসাইট এসইও (Website SEO) বলে।

কিভাবে ওয়েবসাইটের এসইও করবো? (How can I do SEO of a website)

কিভাবে একটি ওয়েবসাইটের এসইও করতে হয় তা আমি আগেই সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছি। এসইও করতেঃ নিশ সিলেকশন, কিওয়ার্ড রিসার্চ, অন-পেজ এসইও, অফ-পেজ এসইও, টেকনিক্যাল এসইও ইত্যাদি করতে হয়! এই বিষয়ে প্রথমেই আলোচনা করেছি।

ইউটিউব এসইও কি? (What is Youtube SEO)

একটি ওয়েবসাইটকে গুগলে র‍্যাংক করানোর জন্য যেমন এসইও করতে হয় তেমনি একটি ইউটিউব চ্যানেল বা ইউটিউব ভিডিও-কেও র‍্যাংক করানোর জন্য এসইও করতে হয়। ওয়েবসাইটের মতো ইউটিউবে যে এসইও করা হয় তাকে ইউটিউব এসইও (Youtube SEO) বলে।

ইউটিউব এসইও কিভাবে করবো? (How can I do Youtube SEO)

ইউটিউব এসইও করার ধরণ ও পদ্ধতি ওয়েবসাইট এসইও থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। তবে কয়েকটি বিষয় ২ টার ক্ষেত্রেই একই। যেমনঃ নিশ সিলেকশন, কিওয়ার্ড রিসার্চ, ট্যাগ, টাইটেল, ডেসক্রিপশন ইত্যাদি। কিভাবে ইউটিউব ভিডিও এসইও করা হয় সেটা নিয়ে আরেকদিন অন্য কোনো পোস্টে বিস্তারিত আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ!

কিভাবে এসইও শিখবো? (How can I learn SEO)

এসইও শিখতে হলে আপনার আগে প্রচুর ধৈর্য থাকতে হবে। কারণ এসইও শিখেই যে আপনি এসইও করতে পারবেন এমনটা না। এসইও সম্পুর্ণ নির্ভর করবে আপনি কিরকম টাইম এর পিছনে ব্যয় করবেন। কতক্ষন সময় আপনি এটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করবেন, টেস্ট করবেন ইত্যাদি। এসইও প্রায় সম্পূর্ণই নির্ভর করে আপনার অভিজ্ঞতার উপর। তাই এসইও শিখেই কোনো বড় প্রজেক্ট নিয়ে খেলতে যাবেন না। আগে ছোট্ট ছোট্ট প্রজেক্ট নিয়ে ঘাটাঘাটি করে দেখুন, তারপর যদি আপনার মনে হয় যে না এবার বড় কিছু নিয়ে খেলার দরকার তাহলে বড় কোনো প্রজেক্টে আসতে পারেন।

এতো কথা না বলে কাজের কথায় আসি। ধরে নিলাম আপনি এসইও শিখতে চান। আপনার যথেষ্ট ধৈর্য্য আছে এসইও শিখে সেটা কাজ লাগানোর জন্য। এসইও শেখার জন্য আপনার কাছে কয়েকটি উপায় আছে। যেমনঃ কোনো পেইড কোর্স করা, ইউটিউব কোনো টিউটোরিয়াল দেখে শেখা, কারো থেকে কোনো এসইও এর কোর্সের ড্রাইভ লিংক নিয়ে একা একা ধীরে ধীরে শিখা।

আপনি যদি কোনো পেইড কোর্স করে এসইও শিখতে চান তাহলে আপনার সব থেকে বড় অ্যাডভান্টেজ হলো যে, আপনি আপনার টিউটরের থেকে অথবা আপনি যে এজেন্সির কাছে এসইও শিখবেন তাদের কাছ থেকে সব সময় সাপোর্ট পাবেন। কোর্স করার সময় কিংবা কোর্স করার পরে মার্কেটপ্লেসের কোনো কাজ করার সময়ও যদি কখনো কোনো এসইও রিলেটেড সমস্যার পড়েন তাহলে তারা আপনাকে সাপোর্ট দিবে। সাপোর্ট কে না চায় বলুন.?
তাই টাকা খরচ করে একটু ভালো কোর্সটাই বেছে নিন।

আবার আপনি যদি চান না আমি গরীব, তৌহিদ আফ্রিদির মতো আমার বাপের ওতো টাকা নাই যে এসইও পেইড কোর্স করবো তাহলে আপনার জন্য ইউটিউব + গুগলই এনাফ। ইউটিউবে বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু, ফারসী সকল ভাষায় অসংখ্য এসইও টিউটোরিয়াল আছে। আপনি যাচাই বাছাই করে আপনার জন্য সেরা টিউটোরিয়াল টা দেখে নিতে পারেন। এছাড়াও আপনি Udemy তে কোনো ফ্রী এসইও কোর্সও করতে পারেন।

এসইও শিখতে কতদিন লাগবে?

এসইও শিখতে কতদিন লাগবে এটা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারবে না। আপনি যেমন টাইম দিবেন এর পিছনে তত তাড়াতাড়ি এটি শিখতে পারবেন। এসইও শুধু শিখলেই হলো না সেটাকে রিয়্যাল লাইফে প্রয়োগ না করলে হাজার হাজার কোর্স, টিউটোরিয়াল কমপ্লিট করেও কোনো লাভ হবে না। কারণ আগেই বলেছি আপনি এসইও কেমন পারেন সেটা নির্ভর করবে আপনার অভিজ্ঞতা কিরকম আছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button